ভোলায় টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে উঠছে প্রকৃতিক গ্যাস 

0
677

ভোলা নিউজ২৪ডটনেট।। ভোলায় টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে উঠছে প্রকৃতিক গ্যাস। স্থানীয়রা ম্যাচ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে আনন্দ করছে ওই গ্যাস দিয়ে। কিন্তু গ্যাস ব্যবহার করে রান্না কিংবা অন্য কোন কাজ করার বিষয়ে যাবেনা তারা। অনেক টিউবওয়েল থেকে গ্যাস বের হওয়ায় ভয়ে টিউবওয়েল ও মাটিতে বসানো পাইব উঠিয়ে গর্ত ভরার্ট করে দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। এমন ঘটনা ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন ৩ নং ওয়ার্ডের চর সুলতানী গ্রামে। সরকারিভাবে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সরকারিভাবে ওই গ্যাস উঠানো দাবী স্থানীয় গ্রামবাসীর।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীদের সাতে আলাম করে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন টিউবওয়েলে ঘর ঘর শব্দ শোনা জাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি তারা গুরুত্ব স্থানীয়রা। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত দেড় মাসে দেড় কিলো মিটার এলাকার মধ্যে ৩ টি সেল টিউবওয়েল জন্য লাইপ বসালে সেখান থেকে পানি প্রবল বেগে উঠতে থাকে এবং একটি গন্দ পেয় তারা। টিউবওয়েল শ্রমিকদের কাছে বিষয়টি সন্দেহ হলে তারা পাইপের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তখন পাইপ থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। এ ঘটনা মুহুর্ত্তের মধ্যে পুরো গ্রাম জুড়ে ঝরিয়ে পরে। এরপর স্থানীয়রা লাই দিতে থাকে এক দৃশ্য দেখার জন্য। পরে টিউবওয়েল শ্রমিকরা ওই বাড়ির মালিককে গ্যাসের বিষয়টি জানান।

ওই এলাকার জমাদ্দার বাড়ির আজিজুল রহমান জমাদ্দার জানান, আামর বাড়ির পাশে পুকুরে পানি অনেক সময় শুকিয়ে যায়। তাই গ্লোসল ও ধোয়ার কাজে অনেক কষ্ট হয় পারিবারের লোকজনদের । এজন্য এ রোজার ২ দিন আগে একটি সেল টিউবওয়েল বসানোর সিদ্ধান্ত দেই। কল শ্রমিকরা মাটিতে ২৫ ফিট পাইপ বসালেই পানি প্রবল বেগে উঠটে থাকে। এছাড়াও একটি গন্দ বের হতে থাকে। আমরা গ্রামের মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারেনি। কিন্তু শ্রমিকদের বিষয়টি সন্দেহ হলে তারা পাইপের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। তখন তারা আমাকে জানানয় এখানে গ্যাস আছে। আমি অনেক ভয় পাই। তাই তাদের অন্য স্থানে কল বসানোর জন্য বলি। সেখানেও পাইপ বসালে একই ঘটনা ঘটে। এখন টিউবওয়েল ওভাবেই পড়ে রয়েছে। আমরা গ্যাসের ব্যবহার জানিনা। আর এটা সম্পর্কেও জ্ঞান নেই।

একই এলাকার ব্যাপারী বাড়ির সাইফুল ব্যাপারী জানান, গত ১ মাস আগে তিনি তার বাড়ির উঠানে একটি সেল টিউবওয়েল বসান। শ্রমিকরা চলে গেলে টিউবওয়েল থেকে গর গর শব্দ ও গন্দ বের হতে থাকে। তখন তারা ভয় পায়। তার এক ছোট ছেলে কল শ্রমিকদের সাথে আলাপ করলে তারা আগুন জ্বালিয়ে দেতে বলে। তাদের কথা মত আগুন জ্বালিয়ে দিলে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। এসময় সাইফুল ব্যাপারী ভয়ে তার টিউবওয়েলের পাইপ বের করে ফেলে। তারপরও শব্দ ও গন্দ বের হলে গর্তে মাটি ও বালু দিয়ে চাপা দিয়ে দেয়। তাতেও শেষ হয় না।

তিনি জানান, আমার বাড়ির গ্যাস উঠছে এখবর এলাকাবাসী শুনে ছুটে আসছে আমার বাড়িতে। ওই গর্তে আনন্দ করে সাবই আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে আমরা পানি দিয়ে অনেক কষ্ট করে আগুন নিভাতে থাকি।

হানিফ বয়াতি জানান, গত ১৫ দিন আগে সেল টিউবওয়েল বসালে সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। আমরা গ্রামের মানুষ গ্যাস কি জিনিস সেটা জানিনা। এলাকার লোকজন বাড়িতে এতে ওই টিউবওয়েলে আগুন ধরিয়ে আনন্দ করে।
তিনি আরো জানান, তার বড় ছেলে ঢাকায় চাকুরি করেন। সে ঢাকায় লোকজনের সাথে আলাপ করে জানতে পেরেছে। ওই গ্যাস দিয়ে রান্না করা যায়। এবার ঈদে আসলে ছেলে রান্নার করার জন্য পাইপ বসাবে।

স্থানীয় বাচ্চু মিয়া জানান, এ এলাকায় প্রায় ২ মাস ধরে টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। স্থানীয়রা আগুন ধরিয়ে দিয়ে আনন্দ করছে।
তিনি আরো জানান, আমাদের গ্রামের মাটির নিচে গ্যাস রয়েছে এটা আমাদের জন্য একটি সু খবর। এবার আমাদের গ্রাম অনেক উন্নত হবে।

আরেক স্থানীয় মোঃ ফরিদ মিয়া জানান, আমাদের গ্রামের এ গ্যাস সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা দরকার। যদি এখানে প্রচুর গ্যাস পাওয়া যায় থাহলে এ গ্যাস উত্তলনের করে আমাদের গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে রান্নার জন্য লাইন। এবং ওই গ্যাস দিয়ে এ গ্রামে একটি শিল্প কল কারখানা গড়ে এলাকার বেকারত্ব দূর করার জন্র সরকারের কাছে দাবী জানান তিনি।

রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান খান জানান, গ্যাসের উঠার বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশ্বাস দেন। এছাড়াও গ্যাসের দ্রুত পরীক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান তিনি।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, আমরা বিষয়টি যেনেছি। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখছে।  আমরা একটি পরীক্ষা ও নিরীক্ষার করার জন্য মন্ত্রনালয়ে একটি চিঠি পাঠাবো। তখন মন্ত্রনালয়ে থেকে এটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন বলেন, আমি সরজমিনে গিয়ে ঘুরে এসেছি ধারনা করছি মিথেন গ্যাস জাতীয় কোন গ্যাস হবে। এটি বড় কোন গ্যাসের খনি নয়।

উল্লেখ্য, ভোলার বোরহানউদ্দিন ও সদর উপজেলার ভেদুরিয়া এলাকায় দুই গ্যাস ফিল্ড রয়েছে। যার থেকে বাণিজিকভাবে গ্যাস উত্তলন করা হচ্ছে। রাজাপুরের চর সুলতানী গ্রামের যদি গ্যাসের মজুদ পরিপূর্ণ থাকে থাকেল এটা নিয়ে জেলায় ৩ নম্বার গ্যাস ফিল্ড হবে।

LEAVE A REPLY