শীতের দিনে সুস্থ ও সুন্দর থাকতে যা করণীয়

0
92

ভোলা নিউজ২৪ডটকম।। শীত ঋতু প্রিয় নয় এমন খুব কম লোকই পাওয়া যাবে। মিষ্টি রোদ, খেজুরের রস, পিঠা, পায়েশ, গুড়সহ নানা ধরনের লোভনীয় খাবার ও বাহারি সবজি সমাহার শীতকে অন্যন্য ঋতুতে পরিণত করেছে। কিন্তু এতকিছুর শীতের নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দেয়।

বিশেষ করে পরিবারের ছোট সদস্য ও বয়স্করা শীতজনিত নানা রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। যেমন- শ্বাস কষ্ট, অ্যাজমা, অ্যালার্জি, সাইনাস বা ঠাণ্ডার সমস্যা। তখন তাদের জন্য পুরো শীতকাল ভীষণ দূর্ভোগের হয়। এছাড়াও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়াসহ অন্যান্য সমস্যা তো রয়েছেই।

শীতের সুস্থ থাকতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন—

• শীতের শুরুতে আপনার পুরো বাসা, কার্পেট, ঘরের দরজা, জানালা, পর্দা এবং এসি খুব ভাল ভাবে ক্লিন করে নিন। এরপর নিয়মিত ফার্নিচার এবং ঘর পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুণ। কারণ শীতকালে বাতাসে ধুলা, ময়লা বেশি থাকে।

• নিয়মিত ঘর এবং আসবাবপত্র পরিষ্কার না করলে জমে থাকা ধুলার কারণে অ্যালার্জি, সাইনাস এবং শ্বাস-কষ্টের সমস্যা ভয়ঙ্কর আকারে বেড়ে যেতে পারে।

• অনেকে শীতকাল আসলে নিয়মিত গোসল করেন না। যা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। প্রতিদিন গোসলের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে অনেক দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়।

• গোসল না করলে এই টক্সিক উপাদানগুলো আমাদের শরীরে থেকে যায়। ফলে শীতের দিনে চুল্কানি, পাচড়া এবং বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগের প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে।

• শীতের দিন সবার উচিত নিয়মিত কুসুম গরম পানিতে গোসল করা। তবে চুলের জন্য কুসুম গরম পানির সাথে আরেকটু পানি মিশিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার পর চুলের জন্য ব্যবহার করা। এতে করে চুল এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।

• গোসলের জন্য গ্লিসারিন সমৃদ্ধ সাবান বা যে কোনও ভাল ব্র্যান্ডের বেবি সোপ ব্যবহার করা ত্বকের জন্য ভাল। পাশাপাশি গোসল শেষে পুরো শরীরে বডি লোশন লাগিয়ে নিন।

• শীতকালে অনেকেই পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন গোসলের সময় পিউমিস স্টোন দিয়ে আস্তে আস্তে পায়ের নিচের মরা চামড়াগুলো তুলে ফেলুন। এরপর গোসল শেষে শরীর হালকা ভেজা থাকতে থাকতে যেকোন ভাল মানের ময়েশ্চারাইজিং লোশন পুরো শরীরে এবং পায়ের নিচে লাগিয়ে নিন।

• পায়ের যত্নে আরেকটি কাজ নিয়মিত করা যেতে পারেন তা হল, ঘুমের সময় লোশনের সাথে গ্লিসারিন মিশিয়ে পুরো পায়ে খুব ভাল ভাবে ম্যাসাজ করে শুয়ে পড়ুন।

• শীতকালে মুখ বা শরীর অস্বাভাবিক রকম ড্রাই হয়ে যায় তার একটি কারণ শীতের আবহাওয়া এবং আরেকটি কারণ হল শীতের দিন তেমন পানি পিপাসা লাগে না বলে অনেকে সারাদিন তেমন পানি পান করেন না।তাই,পানি খেতে না ইচ্ছে করলেও পরিমাণ মত পানি পান করুন।

• শীতকালে শরীর ড্রাই হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কারণ বাতাস অনেক বেশি ড্রাই থাকে এবং আমাদের শরীর থেকে খুব সহজেই পানি বাষ্পীভূত হয়। ফলে ত্বকে দেখা দেয় শুষ্কতা।

• শুষ্কতা এড়াতে ময়েশ্চারাইজিং বডি লোশন এবং মুখে হেভি সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে।

• শীতকালে ঠাণ্ডা বা গলার ব্যথা থেকে সুস্থ থাকতে কুসুম গরম পানি খাওয়া যেতে পারে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে ১/৪ চা চামচ সাদা বা কাল গোল মরিচের গুড়া,১/৪ চা চামচ আদা কুচি এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে এবং লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে খুশখুশে কাশি বা গলা ব্যথার ক্ষেত্রে আরাম পাওয়া যাবে। এছাড়া, নিয়মিত গ্রিনটি খেতে পারেন।

• শীতের দিনে মহিলাদের ঠাণ্ডার সমস্যাটা এ সময় একটু বেশিই বেড়ে যায়। তাই শীতের দিনে বাসন এবং কাপড় ধোবার সময় প্লাস্টিকের গ্লোভস ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঠাণ্ডা থেকে অনেকাংশ বেঁচে থাকা সম্ভব।

• বেশি ঠাণ্ডা পড়লে অনেকের ত্বক কুঁচকে একদম বয়স্ক মানুষের মত হয়ে যায়। এই সমস্যা দূর করতে ত্বকে নারকেল তেল, তিলের তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটি ঘরে থাকার সময়টাতে করা উচিত।

• শীতকালে সুস্থ থাকতে ফ্যাটি ফিস, নানা ধরনের শীতকালীন শাক-সবজি, পর্যাপ্ত পানি এবং টক ফল বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত।

• যারা ওজন কমাতে চান তারা তাদের জন্য শীতকাল খুব ভাল সময়। কারণ এ সময় প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি পাওয়া যায়। শুধু সরল শর্করা অর্থাৎ সাদা ভাত, রুটি, আলু, মুড়ি, চিড়া প্রভৃতি খাবার পরিমাণ মত রেখে বাকিটা শাক-সবজি দিয়ে পূরণ করতে পারলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের সুযোগ থাকে না। ফলে ওজন কমানো সহজ হয়। এছাড়া ত্বক ড্রাই হয়ে যাওয়া এড়াতে বেশি করে ভেজিটেবল সুপ খেতে পারেন। পাশাপাশি সুস্থ থাকতে গরম আর শীত যায় হোক না কেন ব্যায়াম চালিয়ে যান। সুতরাং একটু বুঝে চললে পুরো শীতেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

LEAVE A REPLY