ভোলার জাল দলিল প্রতারক আমির গংয়ের হাত থেকে রেহাই মিলছে কারোই

0
0

ভোলা নিউজ ২৪ ডটকম :: ভোলায় জাল দলিল করার মাধ্যমে পরিবারসহ নিরিহ মানুষের জমি আত্মসাত করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। প্রতারকের হাত থেকে রক্ষায় দ্বারে দ্বারে দৌড়াচ্ছে আপন ছোট ভাইসহ ক্ষতিগ্রস্থ্যরা। রক্ষা পাচ্ছে না আত্বীয়-স্বজনরা পর্যন্ত। সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচাঁর দাবী।

 

ভোলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলার বিবরন এবং অভিযোগে জানাযায়, দীর্য দিন ধরেই ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চর কুমারিয়া গ্রামের প্রতারক মো: আমির হোসেন জাল দলিল করে অন্যর জমি আত্মসাত করাই তার নিয়মিত কাজের মধ্যে পরিনত হয়েছে। এর সাথে একটি বড় ধরনের গ্যাং রয়েছে। যাদের কাজই হচ্ছে অসহায় এবং সাধারন মানুষকে বিপদে ফেলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়া। চর কুমারীয়া গ্রামের মো: আমির হোসেন,মো: হাছান,সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের হিরালাল,মো: জাকির হোসেন,মো: কামরুল হাসান এবং নাছির আহম্মদকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। এরা মিলেই পুরো কাজ করে থাকেন বলে অভিযোগে জানাগেছে। আদালতের মামলা নাম্বার ৬১৬। বর্তমানে মামলাটি আদালতের নির্দেশে সিআইডিতে তদন্তে দেয়া হয়েছে।

 

চলতি বছরের ২৪ মে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে উঠানো একটি নকলে দেখা যায়,এসএ ৯৭৬ নং খতিয়ানে ২৫ শতাংশ এবং ১৬৯৮/২১৩৯ নং দাগে ৪০ শতাংশ জমি গ্রহিতা হিসেবে মো: আমির হোসেন এর নাম রয়েছে। যার পিতার নাম সৈয়দ আহম্মদ। যা ২০০৫ সালের ২৪ মে দলিল হযেছে বলে দেখা যায়। ৩৮১৪/০৫ ভোলা সদর সাব রেজিষ্ট্রার এর স্বাক্ষর ও সীল দেখা যাচ্ছে। একই সাথে হীরালাল,জাকির হোসেন,নুর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েক জন এর স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে ঐ দলিলে। অভিযোগ হচ্ছে এই গ্যাংটি দীর্য দিন ধরেই সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে। যার ভুক্তভোগী হয়ে মো: আবুল কাশেম পিতা মরহুম সৈয়দ আহম্মদ বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। যদিও এবিষয় সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সার্চ দিলে ২০০৫ সালে ৩৮১৪ নাম্বারের গ্রহীতা আমির হোসেন পিতা সৈয়দ আহম্মদ এর নামে কোন দলিল খুজে পাওয়া যায়নি বলে সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের ২৮৪ নাম্বার এর সার্চার মো: জাকির হোসেন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়,একই সার্চার আমির হোসেন এর অপর একটি জাল দলিল নাম্বার  ৩৮১০ এর কোন সত্যতা খুজে পায়নি। এখানেই শেষ নয়,আমির হোসেন এর প্রতারনার মাধ্যমে জাল দলিল তৈরির কাজ। সে তার আপন চাচা সুলতান আহম্মদ এর নামে ভুয়া দলিল তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মরহুম সুলতান আহম্মদ তার মেয়ে ফাতেমা খাতুনকে ১৯৮৪ সারে ঢাকা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে বসে জমি দান করেন। দানপত্র নাম্বার দলিল নাম্বার ৮৫৬৬ যার সিরিয়াল নাম্বার ৪৯৯৬। এর পরেই ২০১২ সালে মারা যান। প্রতারক আমির হোসেন ১৯৭১ সালে যখন তার বয়স মাত্র ৬ বছর তখন তাকে দলিল দিয়েছে মর্মে একটি দলিল বের করেন ২০২২ সালে। যদিও আমির হোসেন এর জাতীয় পরিচয় পত্রে নাম্বার ৮২১২৬০৫৯৯৫ এ দেখা যায় তার জন্ম ১৯৬৫ সালের ১২ জানুয়ারী। যদিও তিনি ২৫/০৯/১৯৭১ সালের যে দলিল দেখান তখন তার বয়স মাত্র ৬বছর। পাকিস্তান আমলের একটি স্টাম্পের নাম্বার দেখা যায় ১১৯৩।

 

এদিকে প্রতারক চক্রের হোতা মো: আমির হোসেন একই দলিল বিভিন্ন নাম্বার দেখিয়ে ভোলা সদর ভুমি অফিস থেকে কাগজপত্র করিয়ে নিয়েছে। যখন যেখানে দরকার তখন সেখানে একটি দলিল উপস্থাপন করেন।

 

এসব বিষয় অভিযুক্ত মো: আমির হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তিনি বলেন,যা হবে আইনে আইনে হবে। আমার বাবা ভাইরে একটা রাইস মিল দিছে আর আমাকে বিল থেকে ৫ গন্ডা জমি দিছে। উনি ওনার মিল বেইচ্চা এখন নিরুপায় হয়ে আমার পিছনে লাগছে। বাবায় যে দিছে তার প্রমান হিসেবে মা ও বোনরা স্বাক্ষী আছে এবং দুইজন মেম্বার স্বাক্ষী আছে। আদালত করেছি আদালতে পাইলে জমি আমার না পাইলে না। ভাইরে যদি ভাই জেল খাটায় খাটমু বলে আমির হোসেন মন্তব্য করেন।

 

LEAVE A REPLY