ভোলায়”প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ টাকা ছাড়া চাকরি হবে অনেকের মনেই প্রশ্ন??”

0
74
ভোলা নিউজ২৪ডটকম।।প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা সবচেয়ে বেশি এই কথাটা শুনে থাকবেন বা শুনেছেন। অনেকেই হয়ত শুনে হতাশ হয়েছেন আবার অনেকেই হয়ত দালালের পিছনে ছুটা শুরু করেছেন
চলুন এটার বাস্তবতা যাচাই করি

‘অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রলোভন দিলে পুলিশে দিন’

প্রথমত যাচাই করা হবে ১০০ মার্কের মাঝে যার মাঝে ৮০ মার্কের লিখিত পরীক্ষা আর ১০ মার্ক SSC + HSC + Graduation এর রেজাল্টের উপর মানে ৯০ মার্কের রেজাল্ট হয়েছে গেছে, এটা বুয়েটের সার্ভারে জমা আছে যা চেঞ্জ করার কোন অপশন নাই মানে যতই দালাল ধরেন এই মার্ক চেঞ্জ করতে পারবে না। এখন বাকি ১০ মার্ক ভাইবার উপর।
ভাইবাতে এই ১০ মার্ক মোট ৪ টি অংশে ভাগ করা ব্যাক্তিত্ব, প্রকাশ ক্ষমতা, সাধারণ জ্ঞান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। এই ৪ টার মাঝে গড় মার্ক পেলেও কিন্তু ১০ এ ৬-৭ এমনেই পেয়ে যাবেন আর একটু ভাল করলেই ৮-৯ ও পেতে পারেন। অন্তত কিছুটা মেধাবী না হলে কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে পারতেন না তাই ভাইবাতে কিছু পাবেন না এমন চিন্তা মাথায় না আনাই ভাল।
এখন ধরেন আপনি যে দালাল কে টাকা দিবেন সে যদি আসলেই আপনার পক্ষে কাজ করতে পারে তাহলে সর্বোচ্চ যে কাজটা করতে পারে সেটা হল ভাইবাতে ১০ এ ১০ কিন্তু এতেই কি জব কনফার্ম হবে?? যারা লিখিত পরীক্ষায় মার্ক বেশি পেয়েছে কোন অঘটন না ঘটলে তারা ভাইবাতেও ভাল করবে মানে ভাল মার্ক পাবে। মানে লিখিত পরীক্ষায় ভাল মার্ক না পেলে ভাইবাতে ১০ এ ১০ পেলেও খুব বেশি লাভ হবে না। আর আপনি যদি লিখিত পরীক্ষায় ভাল মার্ক পেয়েই থাকেন তাহলে শুধু শুধু দালাল ধরবেন কেন??
আপনি যে দালালকে টাকা দিবেন তার কি ভাইবা বোর্ড পর্যন্ত যাওয়ার ক্ষমতা আছে?? ভোলা জেলার ৭ টা উপজেলায় এমন শত শত দালাল আছে আদতে মুখের চাপা ছাড়া এদের আর কোন ক্ষমত নাই। একবার টাকা দিলে কিন্তু সেটা ফেরত পেতে জান বের হয়ে যাবে। দালাল যদি ১০ জনের টাকা নেয় এর মাঝে ১-২ জনের এমনেই যদি হয়ে যায় আর বাকিদের টাকা ফিরিয়ে দিলেও কিন্তু দালালের হিউজ ব্যবসা হয়ে গেল। এছাড়াও যদি দালালের সাথে এমন চুক্তি করেন যে চাকরি হলে টাকা তখন বুজবেন কিভাবে চাকরি নিজের যোগ্যতায় হয়েছে নাকি দালাল দিয়েছে?? তখন নিজের মেধায় চাকরি পেয়েও দালালকে ফাও টাকা দিতে হবে।
খুব কম সংখ্যক পরিবার আছে যারা কোন ক্ষতি (ধার/জমি বন্ধক/বিক্রি/অনেক কষ্টে জমানো টাকা) ছাড়া এতগুলো টাকা দিতে পারবে। টাকা দেয়া মানে শুরুতেই চাপে পড়লেন আর সেই চাপ নিয়েই কিন্তু ভাইবা বোর্ডে যেতে হবে। শুধু পরীক্ষার্থী না পুরু পরিবার ই কিন্তু চাপে থাকবে। চিন্তা করে দেখুন এত কষ্টের টাকা দিয়েও চাকরি না হলে তখন অবস্থা কেমন হবে?? দালাল এত সহজে টাকা ফেরত দিবে?? আর ঘুরে ঘুরে টাকা ফেরত আনতে পারলেও সেই টাকা কিন্তু তেমন কাজে আসবে না।
এবার সরকার কিন্তু দূর্নীতি প্রতিরোধে সার্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। ভাইবায় দূর্নীতি যাতে না হয় সেজন্য ভাইবার মার্ক কমিয়ে রেজাল্টের উপর মার্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। কোন প্রশ্ন ফাস হয়নি আর একজনের পরীক্ষা যাতে অন্যকেউ দিতে না পারে সেজন্য লেখা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করেছে। লিখিত পরীক্ষার আগেও কিন্তু অনেকে দালাল ধরেছিল, কয়জন টিকেছে?? আপনার আশেপাশে খোজ নেন যারা টিকেছে তারা আগে থেকেই মেধাবী আর ভাল প্রস্তুতি নিয়েই টিকতে হয়েছে মানে কোন দূর্নীতি কি হয়নি।
যে যাই বলুক, কারো কথা শুনে বা দালালের মিস্টি কথায় ভুলে শুধু শুধু দালালের পিছনে দৌড়াদৌড়ি করে মরতে যাইয়েন না পরে চাকরি না হলে আমও যাবে ছালাও যাবে। ভাইবার জন্য ভাল প্রস্তুতি নেন আর আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন নিজের পরিশ্রমেই চাকরি হবে ইনশাআল্লাহ।(সংগৃহীত)

LEAVE A REPLY