ভোলার শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঝূঁকি নিয়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান

ভোলার শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঝূঁকি নিয়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান

0
466

এম শাহরিয়ার জিলন, ভোলা ॥ নড়বড়ে খুটি। যে কোন সময় হেলে পরতে পারে। বর্ষার সময় টিনের চালা দিয়ে পানি পরে। পানিতে সয়লাব হযে যায় মেঝে, অনেক সময় ভিজে যায় বই খাতা। ঝড় আসলে চালা উড়িয়ে নিতে পারে যেকোন সময়ে। ঝড় বাদলের দিনে ক্লাস করতে হয় আলো জ্বালিয়ে। অনেক সময় ঝড় বাদল বেশি হলে বন্ধ রাখতে হয় ক্লাশ। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের অনেকাংশ ভেঙ্গে গেছে। যে কোন সময় বিদ্যালয়টি হেলে পড়ে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। আবার গরমের সময় অতিরিক্ত তাপের কারনে ঘামে ভিজে জবজবে হতে হয় শিক্ষার্থীদের। যার ফলে পড়ালেখায় সাময়িক বিঘœতা সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এরকম নানা সমস্যায় জড়জড়িত ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঝূঁকিপূর্ণ টিনসেট ভবনে জীবনের ঝূঁকি নিয়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস করছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে শিবপুরের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মরহুম ইব্রাহিম মিয়া পিছিয়ে পড়া নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করেই বিদ্যালয়টি। ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রতনপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময়ে ১৯৯৫ সালে নির্মিত হয় ১টি টিনের ঘর, যা বর্তমানে আছে জড়াজীর্ণ অবস্থায়। ২০০২ সালে স্কুলটিকে জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভূক্তি করণ করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে ননএমপিও স্কুল হিসেবে মাধ্যমিক পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে। এবছর ২০১৮ সালের চলমান এসএসসি পরীক্ষায় স্কুলটি থেকে ৫২জন ছাত্রী অংশগ্রহণ করবে। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষায় ৮০জন ছাত্রী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৭৮জন পাশ করেছে। লেখাপড়ার ফলাফল ভাল হলেও ভবন সংকটের কারনে পাঠদানে হিমশিম খেতে হয় শিক্ষার্থীদের।

৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি অনেক পুরাতন টিনসেট ভবন হওয়ায় জীবনের ঝূঁকি নিয়ে আমাদের ক্লাশ করতে হচ্ছে। বর্ষাকাল আসলে আমাদেরকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বৃষ্টিতে আমাদের ক্লাশ রুমে পানি পড়ে এবং বই খাতা ভিজে যায়। যার ফলে আমরা ক্লাশ করতে পারি না।
১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, আমাদের এই বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জড়জড়িত। এখানে আমাদের অনেক ঝূকি নিয়ে পাঠদান করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে আমাদের ক্লাস করতে ব্যাপক অসুবিধা হয়। বিদ্যালয়টি অনেক পুরানো হওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি পড়ে আমাদের ক্লাশ ভিজে যায়। সুমাইয়া আরও বলেন, ঝড়ে সময় আমরা আতঙ্কে থাকি। যে কোন সময় বিদ্যালয়টি ভেঙ্গে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ইতিমধ্যে আমাদের বিদ্যালয়ের অনেকাংশ ভেড়ে পড়েছে। তাই আমরা সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি যাতে সরকার আমাদের বিদ্যালয়টি দ্রুত মেরামত করে দেয়। তাহলে আর আমাদেরকে ঝূকি নিয়ে পড়ালেখা করতে হবে না।

শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুরুন নাহার বলেন, ১৯৯৫ সালে শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ার‌্যামন মরহুম ইব্রাহিম মিয়ার একান্ত প্রচেষ্টায় ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় এই বিদ্যালয়ের টিনের ভবনটি নির্মান করা হয়েছে। এখন এই টিনের ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুম আসলে আমরা ক্লাশ করতে হিমশিম খাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টি জড়াজীর্ণ হওয়ায় বৃষ্টিতে ক্লাস রুম ভিজে যায়। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে পাঠদান করতে পারে না। তাই বই-খাতা ভিজে যায়। বেশি বৃষ্টি হলে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। যার ফলে আমাদের পাঠদানে বিঘœতা সৃষ্টি হচ্ছে। বেশি ঝড় হলে আমরা আতঙ্কে থাকি। কারণ যে কোন সময় ভবনটি হেলে পরে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঝূকিপূর্ণ ভবনেই আমাদের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাতে হচ্ছে। ইতিপূর্বে আমরা এই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মান ও অবকাঠামোতগত উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছি। কিন্তু কোন যায়গা থেকে এখন পর্যন্ত আমরা সহযোগীতা পাইনি। একটি বহুতল ভবন নির্মানের জন্য উধ্বর্তন কর্তপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির উপদেষ্টা সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, আমার ভাই শিবপুর ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মরহুম ইব্রাহিম মিয়া তৎকালীন সময়ে শিবপুর ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে তার একান্ত প্রচেষ্টায় শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয়দের সহযোগীতায় প্রতিষ্ঠাকালীন সময় একটি টিনসেট ভবন নির্মান করা হয়। পুরানো এই টিনসেট ভবনটি এখন ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু এই ঝূঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝূঁকি নিয়ে পড়ালেখা করে যাচ্ছে। তবে ঝড়ো বৃষ্টি হলে যে কোন সময় বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়তে পারে। তিনি বলেন, জননেতা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ইতিপূর্বে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেন। সরকারের কাছে এই ঝূঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়টি দ্রুত মেরামত করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমরা জোর দাবী জানাচ্ছি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY