চরফ্যাশনে নিহত জেলে পরিবারের মাঝে শোকের মাতম,তোফায়েল মাঝির বিচাঁর দাবী

চরফ্যাশনে নিহত জেলে পরিবারের মাঝে শোকের মাতম,তোফায়েল মাঝির বিচাঁর দাবী

0
648
মো: আফজাল হোসেন,চরফ্যাশন থেকে ফিরে।। ঘুর্নীঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভোলায় ডুবে যাওয়া মাছ ধরার ট্রলারের নিহত পরিবারে মাঝে চলছে শোকের মাতম। এসব পরিবার গুলোর দাবী ট্রলার মালিক তোফায়েল মাঝির বিচাঁর। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্থ্য এবং নিহত জেলে পরিবারকে আর্থিক সাহায্যসহ টি প্রদান করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কবলে পড়ে ২৪ জেলে নিয়ে ডুবে যাওয়া মাছ ধরার ট্রলার থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ জেলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে মৃতদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহত পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ওই সকল এলাকায়ও মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা ট্রলারের মালিক তোফায়েল মাঝিকে দায়ী করেন।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাতে নিহত জেলেদের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর সকালে ট্রলারের মালিক তোফায়েল মাঝি লাশগুলো জেলেদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আর কোনো খবর নেয়নি। তাদের পরিবার গুলোকে শান্তনার জন্যও আসেনি তার কোনো লোকজন। নিহত মো. মফিজ ও কামাল দালালের মা নুর জাহান ও বিবি হাজেরা বলেন, মফিজ ও কামাল গত ৩১ অক্টোবর আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের তোফায়েল মাঝির সাথে সাগরে মাছ ধরতে যায়।

নয় দিন সাগরে মাছ ধরার পর গত শুক্রবার ফিরে এসে বরিশালে মাছ বিক্রি করতে যায়। সেখানে মাছের দাম কম হওয়ায় তোফায়েল মাঝি তাদেরকে চাঁদপুরে নিয়ে যায়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ট্রলারে থাকা অনেক জেলেই চায়নি। সর্বশেষ তোফায়েল মাঝির চাপে তারা চাঁদপুর যেতে বাধ্য হয়। শনিবার মাছ বিক্রি শেষ হলে তোফায়েল তাদেরকে নিয়ে ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেতের মধ্যেই চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। জেলেরা পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে রওনা দেয়ার কথা জানালে তারা মাঝিকে এই ঘুর্ণিঝড়ের মধ্যে ট্রলার ছাড়তে নিষেধ করেন। কিন্তু তোফায়েল মাঝি কারো কথা না শুনে এক প্রকার জোর করেই ট্রলার ছেড়ে দেয়। সর্বশেষ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রলারটি ভোলার সীমান্তবর্তী এলকার মেঘনা নদীতে ২৪ জেলেকে নিয়ে ডুবে যায়। এঘটনায় নিহতের পরিবার ক্ষতিপূরণ ও তোফায়েল মাঝির শাস্তি দাবি করেন। এঘটনায় ট্রলারের মালিক তোফায়েল মাঝি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। এদিকে নিহত ১০ জেলের পরিবারগুলো একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এদিকে নিহত ১০ জেলের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক। প্রসঙ্গত: গত রবিবার চাঁদপুর থেকে মাছ বিক্রি করে ২৪ জেলে নিয়ে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ সময় দুপুরের দিকে ট্রলারটি মেঘনা নদীর ভোলা-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকা মেহেন্দীগঞ্জের রুকুন্দী পয়েন্টে আসলে ঘুর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা খবর পেয়ে মাঝিসহ ১০ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। এবং সন্ধার দিকে মোরশেদ নামের এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। কিন্তু ট্রলারে থাকা বাকী ১৩ জনের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের কয়েকটি টিম মেঘনা নদীতে অভিযান চালায় এবং ডুবে যাওয়া ট্রলারটিও উদ্ধারের চেষ্টা চলে। সর্বশেষ সোমবার সন্ধার পর নদীতে ভাটার সময় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করলে সে ট্রলারের কেবিনের মধ্যে ৯ জেলের মরদেহ পাওয়া যায়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY