ভোলায় ৯৯৯ কল দিয়ে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষ্যা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর

0
171
রাকিব উদ্দিন অমি,ভোলা ।।
ভোলা রাজাপুরে ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ৯৯৯ এ কল দিয়ে রক্ষ্যা পেলো বাল্যবিয়ে থেকে।
আজ রোববার (১৭জানুয়ারি) সকাল ১০টার সময় পারিবারিক চাপে জোরপূর্বক ভাবে বাল্যবিবাহ হচ্ছে এমন একটি কল ৯৯৯ করেন আসমা বেগম।৯৯৯থেকে তাৎক্ষণিক ভোলা সদর থানাতে কল আসলে কনের বাড়িতে উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও পুলিশের টিম গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।
ঘটনাটি ঘটে ভোলার রাজাপুর ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ডের কন্দ্রকপুর গ্রামের সেরাজুল মুন্সিবাড়ি,জালু বয়াতির খেয়াঘাট সংলগ্ন ওবায়দুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া আসমা বেগম (১৩) সাথে।আসমার বাবা কামাল হোসেন তার পাশের গ্রামের এক ছেলের সাথে জোরপূর্বক বিবাহ দিচ্ছিল মেয়েটির।কিন্তু বিয়েতে আসমা বেগম(১৩) রাজি না থাকার প্রতিবেশিকে জানালে তারা আসমা বেগম কে সাহায্য করার জন্য ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি থানায় জানান।উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও পুলিশের টিম গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।
পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃ আরমান হোসেন  জানান,ভোলা সদর থানাধীন রাজাপুর ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ডের কামাল হোসেনের স্কুল পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়স্কা মেয়েকে পারিবারিক চাপে জোরপূর্বক ভাবে বাল্যবিবাহ দিচ্ছেন দুপুর ১টার সময় বরযাত্রী উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন হবে। এমন খবর ৯৯৯ থেকে আমাদের জানানো হলে।বিষয়টি উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ মিজানুর রহমানকে অবহিত করলে তিনি সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ আবু আব্দুল্লাহ কে নিয়ে পুলিশ এর সহায়তায় ঘটনাস্থলে যে বিয়ে বন্ধ করে দেন।
সহকারী কমিশনার ভূমি জনাব মোঃ আবু আব্দুল্লাহ খান জানান,অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী আসমা বেগম(১৩) এর পারিবারিক চাপে জোরপূর্বক ভাবে বাল্যবিবাহ দিচ্ছে।দুপুর ১টার সময় বরযাত্রী উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন হবে।এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই।সে সময় ঘটনাস্থলে বরযাত্রী কাউকে না পাওয়ায়।মেয়ের বাবা কামাল হোসেন বাল্যবিবাহ দিবেনা  অঙ্গীকার করাই।তাছাড়া বাল্যবিবাহ আয়োজন করার অপরাধে শাস্তিস্বরূপ তাকে ১০হাজার জরিমানা করা হয়।
ভোলা থানার এস আই গুলজার বলেন, সকাল ৯৯৯ থেকে কল করে বলা হয় একটি মেয়েকে জোড় করে বাল্যবিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে আমি ফোর্স নিয়ে মেয়ের বাড়ি পৌঁছে দেখি বিয়ের সকল কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে।কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বর পক্ষ আসেনি।মুচলেকা নিয়ে বিয়েটি বন্ধ করে দেই। ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দিতে দুই পরিবারকে পরামর্শ দেই।
এ ঘটনায় মেয়ের বাবা কামাল হোসেন নিজের অপরাধ স্বীকার করে বাল্যবিবাহ না দিয়ে মেয়ে আসমা কে পড়াশোনা করানোর অঙ্গীকার করেন।

LEAVE A REPLY